
স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরো
কখনো বরফে ঢাকা পেঙ্গুইনের কলোনি আবার কখনো গহীন আমাজনের জঙ্গলের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এই বুড়ো মানুষ। সেই ফিসফিসে কণ্ঠ, ধীর শ্বাস ফেলার মতো শান্ত বর্ণনা। পৃথিবীর পুরোটাই যে একটা গল্প, এই বোধ সম্ভবত তাঁর কাছ থেকেই প্রথম পেয়েছিলাম আমি। ভয়েস অব ঢাকার জন্মের পেছনে সরাসরি অবদান এই মানুষটার। সত্যি বলতে, আমার ডকুমেন্টারি বানানোর আগ্রহই হয়তো জন্মই নিত না যদি অ্যাটেনবরো না থাকতেন।
তার Life on Earth, Planet Earth, Blue Planet, Frozen Planet এগুলো দেখেই সব শেখা। সাথে বই পরার যে আগ্রহটা।
১৯২৬ সালের ৮ মে লন্ডনের আইজলওয়ার্থে জন্ম। ১৯৫২ সালে BBC তে যখন এই মানুষটা ট্রেইনি হয়ে ঢোকেন, তখন নিজের বাড়িতেই টিভি ছিল না তার। ১৯৫৪-তে Zoo Quest দিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন। সাত দশকের ক্যারিয়ারে ১০০ এর বেশি ডকুমেন্টারি বানিয়েছেন।
Life on Earth এর পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে এ বছরই বেড়িয়েছে Making Life on Earth: Attenborough’s Greatest Adventure। গত বছর Ocean with David Attenborough। মানে এই শপ্তবছরেও; এই বয়সে এসেও থামছেন না, লোকটা। কি দুর্দান্ত স্পিরিট একটা মানুষের!!!
আজ রয়্যাল আলবার্ট হলে তাঁর জন্য বিশেষ আয়োজন চলছে। আয়োজনের আবেগে আপ্লুত হয়ে নিজেই বলেছেন “completely overwhelmed”। তিনি ভেবে রেখেছিলেন চুপচাপ দিনটা পার করে দিবেন। কিন্তু তাই কি আর হবার? বিজ্ঞানীরা গতকাল নতুন এক বোলতার প্রজাতির নাম রেখেছেন তাঁর নামে। এর চেয়ে অ্যাটেনবরোসুলভ জন্মদিনের উপহার আর কী হতে পারে।
তিনি বলেছিলেন, “এই গল্পের শেষটা আমি দেখে যেতে পারব না। তবে সারা জীবন পৃথিবীটা ঘুরে দেখে আমি এটুকু বুঝেছি — মানুষ যত বেশি প্রকৃতিকে চিনবে, যত ভালোবাসবে, বাঁচার সম্ভাবনা ততই বাড়বে। প্রকৃতির, এবং আমাদেরও।”
অ্যাটেনবরো সাহেবকে ন্যাশনাল ট্রেজার বললেও আসলে কম বলা হয়। এই মানুষটার কণ্ঠ আমার কাছে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য কণ্ঠ। বরফ গলছে, উনি দেখিয়েছেন বলে আমরা দেখেছি। প্রবাল মরছে, উনি দেখিয়েছেন বলে আমরা দেখেছি। শত শত বিজ্ঞানীদের হাজার হাজার রিসার্চ পেপার, রিপোর্ট কেউ পড়ে না, কিন্তু এই মানুষটার ফিসফিসে কণ্ঠ কেউ এড়াতে পারে না। এটাই বোধহয় সবচেয়ে বড় শিক্ষা। চিৎকার না, ফিসফিস করেও মানুষের অন্তরে পৌঁছানো যায়।
একশো বছর হলো। বয়সের ভাড়ে নুইয়ে পড়েছেন কিছুটা। অথচ আজও ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালে তার চোখ চকচক করে, কণ্ঠে সেই কৌতূহল অটুট রয়েছে। সত্যিকারের শতবর্ষী তরুণ এই একজনই আছেন পৃথিবীতে।
শুভ জন্মদিন, স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরো। আপনি না থাকলে আমার জীবনটা অন্যরকম হতো। আরও শতবর্ষ বেচে থাকুন।

rowshantaieen